Ticker

6/recent/ticker-posts

ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ (১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দ)



ভূমিকা:-

   বাংলার বিপ্লবী কার্যকলাপের ইতিহাসে যেসব দুঃসাহসিক ঘটনা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য সেগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল চট্টগ্রামের ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ।


বিনোদন কেন্দ্র:- 

   চট্টগ্রাম শহরের উত্তর দিকে পাহাড়তলী স্টেশনের কাছে অবস্থিত ইউরোপীয় ক্লাব ছিল ব্রিটিশদের একটি প্রমোদ কেন্দ্র।


আক্রমণের পরিকল্পনা:-

   বিপ্লবী শৈলেশ্বর চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ১০ই আগস্ট ৭জন বিপ্লবী ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। এরপর মাস্টারদা সূর্য সেনের উদ্যোগে বিপ্লবীরা পুনরায় ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। সূর্যসেন তাঁর অনুগামী বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নেতৃত্বে কয়েকজন বিপ্লবীকে ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের দায়িত্ব দেন। কিন্তু এদের মধ্যে কল্পনা দত্ত আক্রমণ শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই পুলিশের হাতে বন্দী হন।


আক্রমণ:-

   প্রীতিলতার নেতৃত্বে শান্তিচক্রবর্তী, বীরেশ্বর রায়, প্রফুল্ল দাস কালীকিংকর দে, মহেন্দ্র চৌধুরী, সুশীল দে, পান্না সেন সহ একদল বিপ্লবী রাইফেল, বোমা প্রভৃতি আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত হয়ে ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৪ শে সেপ্টেম্বর ইউরোপীয় ক্লাবে আক্রমণ চালায়। পুলিশ ও বিপ্লবীদের পাল্টা আক্রমণ চালালে বিপ্লবীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।


পরাজয়:-

   পুলিশের গুলি এসে প্রীতিলতার পায়ে লাগে। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগে ২১ বছর বয়স্কা বিপ্লবী প্রীতিলতা পটাসিয়াম সায়ানাইড (KCN) নামক বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন। বিপ্লবী কল্পনা দত্তের জেল হয়।


বি.দ্র:-

   ১) পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাবে  একমাত্র শ্বেতাঙ্গদের প্রবেশের অধিকার ছিল। ক্লাবের সামনে সাইনবোর্ডে লেখা ছিল কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ”। সন্ধ্যের পর ইংরেজরা এখানে সমবেত হয়ে মদ্যপান, নাচ, গান প্রভৃতির মাধ্যমে আনন্দ-উল্লাস করত।

   ২) আক্রমণের পূর্বে বিপ্লবীদের আশ্রয় দিয়েছিলেন ক্লাবের কর্মী যোগেশ মজুমদার। তিনিই ২৪ শে সেপ্টেম্বর শনিবার রাত ১১ টার দিকে ক্লাবের ভিতর থেকে আক্রমণের ইঙ্গিত দিলে বিপ্লবীরা আক্রমণ শুরু করে। 

   ৩) পুলিশের রিপোর্ট অনুসারে ক্লাব আক্রমণের ঘটনায় মিসেস সুলিভান নামে জনৈক মহিলা নিহত হন এবং অন্যান্য ১১ জন নারী-পুরুষ আহত হন।

Post a Comment

0 Comments