বালেশ্বর সংগ্রাম বা বুড়িবালামের যুদ্ধ: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বীরত্বগাথা


ভূমিকা:-

   ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ওড়িশার বুড়িবালামের যুদ্ধ (Battle of Buribalam) একটি অনন্য, রোমাঞ্চকর এবং রক্তে ভরা অধ্যায়। ১৯১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঘটিত বুড়িবালামের যুদ্ধের লড়াইতে মাত্র পাঁচজন বাঙালি তরুণ আধুনিক ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সামনে লড়েছিল। নিচে বুড়িবালামের যুদ্ধের পটভূমি, কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং কীভাবে চালিত হয়েছিল—এর সম্পূর্ণ বর্ণনা দেওয়া হল। বাংলার বৈপ্লবিক আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ে অর্থাৎ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানি করে সশস্ত্র বিপ্লবের যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় সেই পরিকল্পনায় যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বা বাঘাযতীন, নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বা মানবেন্দ্রনাথ রায়, ডা: যদু গোপাল মুখোপাধ্যায় প্রমুখেরা বিপ্লবের প্রয়াস চালান।


প্রতিশ্রুতি:-

  সশস্ত্র বিপ্লব পরিচালনার জন্য বিপ্লবীরা ব্রিটেনের শত্রু জার্মানির কাছ থেকে অস্ত্র সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পান। বলা হয়, জার্মানি থেকে মাভেরিক, অ্যানি লারসেন হেনরি এস নামে তিনটি জাহাজে অস্ত্র পাঠানো হয়েছে। এই অস্ত্র এলে সুন্দরবনের রায়মঙ্গল, উড়িষ্যার বালেশ্বর ও নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপে (বর্তমান বাংলাদেশ) নামাবার ব্যবস্থা করা হবে। এখান থেকে অস্ত্র এলে তা নৌযোগে গোপনে কলকাতা ও বালেশ্বরে বিপ্লবীদের প্রধান ঘাঁটিগুলিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। এবং এই তিন জায়গা থেকে অস্ত্র খালাস করে ভারতের পূর্ব ও উত্তর অংশে একযোগে ব্রিটিশ সেনানিবাসগুলোতে আক্রমণ চালানো হবে এবং রেললাইন ও টেলিগ্রামের তার কেটে দিয়ে ব্রিটিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, জাহাজটি পৌঁছানোর আগেই ডাচ ও ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের কাছে এই তথ্য ফাঁস হয়ে যায় এবং 'ম্যাভেরিক' জাহাজটিকে সমুদ্রের মাঝপথেই জব্দ করা হয়। কিভাবে এই সম্পূর্ণ ঘটনাটি ঘটে সেটি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

  

বুড়িবালামের যুদ্ধ:- 

   কিন্তু ব্রিটিশ পুলিশ গোপনে ওই জাহাজ গুলির ভারতে আসার সংবাদ পেয়ে গেলে ওগুলি আর নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে পারেনি। উপরন্ত কলকাতার পুলিশ কমিশনার "চার্লস অগাস্টাস টেগার্ট ” বাঘাযতীন কে ধরার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র পুলিশের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে বালেশ্বর পৌঁছান।

বাঘাযতীন প্রথমে পুলিশের নজর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে বুড়িবালাম নদীর তীরে ঘাঁটি তৈরি করে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হন। ৯ই সেপ্টেম্বর ১৯১৫  খ্রিস্টাব্দে উভয় পক্ষে ২০ মিনিট ধরে রীতিমত খন্ডযুদ্ধের পর দেখা গেল চিত্তপ্রিয় নিহত এবং যতীন্দ্রনাথ ও জ্যোতিষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। পরদিন (১০ই সেপ্টেম্বর,১৯১৫) ভোরে বালেশ্বর হাসপাতালে বীর বিপ্লবী বাঘাযতীন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জ্যোতিষ সুস্থ হয়ে উঠলে বিচারে ১৪ বছরের কারাদণ্ড হয়। নীরেন ও মনোরঞ্জনের ফাঁসি হয়।

 পরে কারারুদ্ধ অবস্থাতেই জ্যোতিষ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। "বালেশ্বর সংগ্রাম" বা "বুড়িবালামের যুদ্ধ" নামে খ্যাত। যতীন্দ্রনাথ ও তাঁর সহ বিপ্লবীদের ওই সংগ্রাম ভারতের বিপ্লবের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে আছে।


১. যুদ্ধের পটভূমি: কিভাবে শুরু হল (The German Plot)

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) সময়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতি এই যুদ্ধের সূচনা করেছিল। বাঘা যতীন (যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়) বললেন, শুধু ছোট গোপন হত্যাকাণ্ড বা বোমা বিস্ফোরণ দিয়ে ভারতকে স্বাধীন করা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন সুসংগঠিত সশস্ত্র গণ-অভ্যুত্থান।

জার্মানির সাথে চুক্তি: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি ব্রিটিশদের প্রধান শত্রু ছিল। বাঘা যতীন এবং বাঘা যতীন দল ‘যুগান্তর’ জার্মানির কাছ থেকে টাকা ও অস্ত্র পায়, তারপর ভারতে ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে একসাথে বিদ্রোহের পরিকল্পনা করে।

অস্ত্রবাহী জাহাজ: পরিকল্পনা অনুযায়ী, জার্মানি থেকে মাউজার পিস্তল, রাইফেল এবং কার্তুজের বড় পরিমাণ তিনটি জাহাজে ভরে ভারতীয় উপকূলে পৌঁছাবে। প্রধান জাহাজের নাম 'ম্যাভেরিক' (Maverick)।

বালেশ্বরকে বেছে নেওয়া: 'ম্যাভেরিক' জাহাজের অস্ত্র খালাস করতে ওড়িশার বালেশ্বর (Balasore) উপকূল ব্যবহার করা হয়। বালেশ্বরের দূরত্ব কলকাতা থেকে কম, আর ভৌগোলিক অবস্থান বিপ্লবীদের গোপন থাকা ও যোগাযোগে সুবিধা দেয়।

ছদ্মনাম ও সমন্বয়: বাঘা যতীনের নির্দেশে প্রধান সহযোগী নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য (পরবর্তীতে কমিউনিস্ট নেতা এম. এন. রায়) 'সি. এ. মার্টিন' ছদ্মনাম ব্যবহার করে জাভা (বাটাভিয়া) যান। নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য জার্মান দূতাবাসের সঙ্গে অস্ত্র ও অর্থের চূড়ান্ত সমন্বয় করেন।

অভিযান:-

অস্ত্র সংগ্রহ যাতে সুচারুভাবে সম্পূর্ণ হয়, ১৯১৪ সালের ২৬শে আগস্ট কলকাতার 'রডা অ্যান্ড কোম্পানি'র অস্ত্র লুটের মূল মাস্টারমাইন্ড বা পরিকল্পনাকারী ছিলেন অনুকূল মুখার্জী এবং তাঁর দল (যাঁরা 'মুক্তি সংঘ' বা পরবর্তীকালে যুগান্তর দলের সাথে যুক্ত ছিলেন)। রডা কোম্পানির কর্মচারী এবং বিপ্লবীদের সহযোগী হাবিলদার শ্রীশচন্দ্র মিত্র (হাবু মিত্র) এই লুণ্ঠনে সরাসরি সাহায্য করেছিলেন। তিনি কাস্টমস থেকে অস্ত্র খালাস করে সাতটি গরুর গাড়ির মধ্যে একটি পুরো গাড়ি (যাতে ৯টি বাক্স ছিল) বিপ্লবীদের আস্তানায় সরিয়ে ফেলেন। রডা কোম্পানির অস্ত্র লুটের পর সেই ৫০টি মাউজার পিস্তল এবং ৪৬,০০০ রাউন্ড গুলি কলকাতার বিভিন্ন গোপন আস্তানায় লুকিয়ে ফেলা হয়। সেই সময় বাংলায় বিপ্লবী দলগুলোর মধ্যে 'যুগান্তর' ছিল অন্যতম প্রধান এবং বাঘা যতীন (যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়) ছিলেন এই যুগান্তর দলের সর্বাধিনায়ক। লুণ্ঠিত অস্ত্রের সিংহভাগই বাঘা যতীনের বিপ্লবী দলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।

 সেই বিপ্লবীদের একটি দল জার্মানির পাঠানো অস্ত্র সংগ্রহ করতে ১৯১৫ সালে যদু গোপাল মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সুন্দরবনের রায়মঙ্গলে যায়। একটি গোষ্ঠী কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম দখলের পরিকল্পনা নেয়। বাঘাযতীন ও তার চার সঙ্গী -চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরী, জ্যোতিষ পাল, নীরেন দাশগুপ্ত ও মনোরঞ্জন সেনগুপ্ত কে সঙ্গে নিয়ে "মাভেরিক" থেকে অস্ত্রশস্ত্র আনার জন্য ওড়িশার বালেশ্বরের কাপ্তিপাদা গ্রামে উপস্থিত হন। এবং সেখানে ছদ্মবেশে ঘাঁটি গড়ে তোলেন। পরবর্তীকালে বাঘা যতীন যখন বুড়িবালামের নদীর তীরে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে লড়েন, তখন তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরা এই রডা কোম্পানির কাছ থেকে লুট করা মাউজার পিস্তল দিয়েই যুদ্ধ করেছিলেন। 


২. ব্রিটিশ গোয়েন্দা দ্বারা বিপ্লবীদের তথ্য ফাঁস

বিপ্লবীদের বড় পরিকল্পনা সফল হতে পারত, কিন্তু ব্রিটিশ গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক চক্রান্তের খবর ফাঁস করেছে।

জাহাজ তল্লাশি: ব্রিটিশ নৌবাহিনী সমুদ্রের মাঝখানে অস্ত্রবাহী জাহাজ আটকায়। তারপর উপকূলের অঞ্চলগুলোকে কঠোরভাবে রক্ষা করে।

আস্তানার সন্ধান: একই সময়ে পুলিশ কলকাতার কয়েকটি বিপ্লবী কেন্দ্রে তল্লাশি করে, বালেশ্বরের কাপ্তিগদায় বাঘা যতীনদের গোপন আস্তানার সূত্র পায়।

ব্রিটিশদের অভিযান: কুখ্যাত পুলিশ কমিশনার চার্লস টেগার্ট এবং বালেশ্বরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিলবির নেতৃত্বে বড় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী বালেশ্বরে পৌঁছে, বিপ্লবীদের ঘাঁটি ঘিরে ফেলে।

বিপদে ভয়ে বাঘা যতীন চার সঙ্গীকে নিয়ে কাপ্তিপাদার জঙ্গল ছেড়ে পায়ে হেঁটে পালতে শুরু করে। বাঘা যতীন এবং চার সঙ্গীর লক্ষ্য ছিল ডুভিগর পর্বতশ্রেণি পার করে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছানো। বাঘা যতীন এবং চার সঙ্গী কয়েক দিন খাবার না খেয়ে, ভেজা বৃষ্টিতে কাদা জঙ্গল পার করে চালিয়ে যায়।

ব্রিটিশ প্রশাসন গ্রামবাসীদেরকে জানায় যে, জঙ্গলে একদল “কুখ্যাত ডাকাত” দৌড়াচ্ছে। ব্রিটিশ প্রশাসন কুখ্যাত ডাকাতকে ধরলে বড় পুরস্কার দেবে। পুরস্কারের লোভ ও ভয় নিয়ে কিছু গ্রামবাসী পুলিশের কাছে ডাকাতের অবস্থান ও চলাচল জানায়।

বুড়িবালামের যুদ্ধে বাঘাযতীন ও ইংরেজরা

৩. বুড়িবালামে যুদ্ধ চালানো: বুড়িবালাম তীরে ঐতিহাসিক ৭৫ মিনিট

৯ সেপ্টেম্বর ১৯১৫ ভোরে। দীর্ঘ পথ হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত পাঁচ বিপ্লবী ওড়িশার বালেশ্বরের কাছে বুড়িবালাম (বা বুড়িবালাং) নদীর তীরে চষাকণ্ডে (Chashakhand) পৌঁছাল। পাঁচ বিপ্লবী সাঁতার কেটে নদী পার হল। পাঁচ বিপ্লবী দেখল, চারপাশে শত শত সশস্ত্র ব্রিটিশ পুলিশ ও সেনা দল ঘিরে আছে।

সব পথ বন্ধ দেখলে বাঘা যতীন কাপুরুষের মতো আত্মসমর্পণ না করে, সামনে লড়াই করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন। বাঘা যতীন সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে বললেন, "আর পালানো নয়। যুদ্ধ করলে মানুষ মরে যাবে। মানুষ মরে যাবে, জগৎ জাগবে।" 


কৌশলগত অবস্থান ও পরিখা যুদ্ধ:

পাঁচজন বিপ্লবী নদীর তীরের উঁচু ঢিবির পেছনে শুকনো ডোবা বা প্রাকৃতিক পরিখা (Trench) এ কৌশলগত অবস্থান নেয়। আধুনিক যুদ্ধবিদ্যায় বাঙ্কার তৈরি করে লড়াই করা হয়। বাঘা যতীন বাঙ্কার তৈরি করে লড়াই করার কৌশল ব্যবহার করে বাঘা যতীন বাহিনীকে বিন্যস্ত করেন।

অসম যুদ্ধ:

বিপ্লবীদের শক্তি ছিল শুধু বিপ্লবীদের মনোবল এবং গুটিকয়েক মাউজার পিস্তল। ব্রিটিশ দলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিলবি এবং মিলিটারি লেফটেন্যান্ট রাদারফোর্ড আধুনিক ট্রিপল-নট-থ্রি (.303) রাইফেলধারী শত শত প্রশিক্ষিত সেনা এবং পুলিশকে নেতৃত্ব দেন।

দুপুরে মূল যুদ্ধ শুরু হয়। ব্রিটিশ বাহিনী দূর থেকে বিপ্লবীর পরিখা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়তে থাকে। বাঘা যতীন বললেন, একটিও গুলি নষ্ট না করা যাবে। বিপ্লবী ঠান্ডা মাথায়, নিখুঁত নিশানায় গুলি চালায়। মাউজার পিস্তলের গুলিতে কয়েকজন ব্রিটিশ সেনা আহত হয়। মাত্র পাঁচজন তরুণের প্রতিরোধ দেখে ব্রিটিশ কমান্ডাররা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। প্রায় পঁচাত্তর মিনিট এই তীব্র বন্দুকযুদ্ধ চলতে থাকে।


৪. যুদ্ধের করুণ ও গৌরবময় অবসান

সীমিত গোলাবারুদ দিয়ে বিশাল আধুনিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। যুদ্ধের শেষের দিকে এসে বিপ্লবীরা করুণ পরিণতির সম্মুখীন হয়:

চিত্তপ্রিয়ের আত্মদান: ব্রিটিশের গুলি বুকে আঘাত করে, তরুণ বিপ্লবী চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরী ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।

বাঘা যতীনের আঘাত: বাঘা যতীন শরীরে একাধিক গুলি পেয়ে গুরুতর আহত হয়। বাঘা যতীন থেকে প্রচুর রক্তপাত হচ্ছিল।

গুলি ফুরিয়ে যাওয়া: এক সময়, বিপ্লবী মনোরঞ্জন, বিপ্লবী নীরেন এবং বিপ্লবী জ্যোতিষের হাতে থাকা সব কার্তুজ ও গুলি শেষ হয়ে যায়।

আত্মসমর্পণ ও বন্দিত্ব: বন্দুক শেষ হলে, রক্তে লথিত ও অচেতন বিপ্লবীদের ব্রিটিশ বাহিনী ধরল।

বালেশ্বর সরকারি হাসপাতাল বাঘা যতীনকে গ্রহণ করে। পরের দিন, অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর ১৯১৫ সালে, মাত্র ৩৫ বছর বয়সে বাঘা যতীন মারা যান। মৃত্যুর আগে বাঘা যতীন সব দোষ বাঘা যতীন কাঁধে রাখেন এবং বাঘা যতীন তরুণ সহযোদ্ধাদের নির্দোষ বলে দাবি করেন, যাতে ব্রিটিশরা বাঘা যতীন তরুণ সহযোদ্ধাদের ওপর অত্যাচার না করে।


৫. যুদ্ধে বিপ্লবীদের ভূমিকা ও শেষ পরিণতি

যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন): যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি গুরুতর আঘাত পেয়ে ১০ সেপ্টেম্বর ১৯১৫ বালেশ্বর হাসপাতালে মারা গেছেন। 

চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরী: সামনের লড়াইয়ে ৯ সেপ্টেম্বর রণক্ষেত্রেই দেশের জন্য জীবন দিলেন। 

মনোরঞ্জন সেনগুপ্ত: তিনি বন্দি হলেন। ব্রিটিশ আদালত ২২ নভেম্বর ১৯১৫ তারিখে বালেশ্বর জেলে ফাঁসি দিল। 

নীরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত: তিনি মনোরঞ্জনের সঙ্গে বন্দি হলেন, একই দিনে ফাঁসির কাঠে জীবন দিলেন। 

জ্যোতিষচন্দ্র পাল: গুরুতর আঘাতে জ্যোতিষচন্দ্র পাল বন্দি হলেন। আদালত জ্যোতিষচন্দ্র পালকে ১৪ বছর কঠিন কারাদণ্ড দিল। পরে বহরমপুর জেলে জ্যোতিষচন্দ্র পাল মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে মারা গেলেন। 

চার্লস টেগার্টের উক্তি: বুড়িবালামের যুদ্ধের পর বিপ্লবীদের বীরত্ব দেখে ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার চার্লস টেগার্ট লিখেছেন— "বাঘা যতীন যদি ইউরোপীয় হতেন, তবে তাঁর বীরত্বের সম্মানে আল্পস পর্বতে তাঁর ব্রোঞ্জের মূর্তি স্থাপন করা হতো।"

বিপ্লবীরা বুড়িবালামের যুদ্ধ জিততে পারেননি, তবে বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ ভগত সিং, সূর্য সেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং আরও হাজারো তরুণকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলতে চূড়ান্ত অনুপ্রেরণা দিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

4 মন্তব্যসমূহ