আলিপুর বোমার মামলা



ভূমিকা:- 

   বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু প্রফুল্ল চাকী মুজাফফরপুর বোমা ছুঁড়ে মিসেস  কেনেডি ও তাঁর কন্যাকে হত্যা করার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ নানা স্থানে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে।


গ্রেপ্তার:-

   পুলিশ বিপ্লবীদের গোপন ঘাঁটি মুরারিপুকুর বাগানবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বোমা তৈরীর কারখানা, বহু তাজা বোমা ও অস্ত্র শস্ত্র খুঁজে পায় এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে পুলিশ অরবিন্দ ঘোষ ও তাঁর ভাই বারীন্দ্রকুমার ঘোষ সহ ৪৭ জন বিপ্লবী কে গ্রেফতার করে।


মামলার সূচনা:- 

   পুলিশ গ্রেপ্তার হওয়া বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে ২১ শে মে আলিপুর সেশন আদালতে মামলা শুরু করে, যা আলিপুর বোমার মামলা নামে পরিচিত। এটি ছিল ভারতীয় বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের প্রথম ষড়যন্ত্র মামলা।


দুঃসাহসিক ঘটনা:-

   দীর্ঘ এক বছর ধরে এই মামলা চলে। মামলা চলাকালে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর নন্দলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, সরকারি উকিল আশুতোষ বিশ্বাস ও পুলিশের ডেপুটি সুপারিন্টেডেন্ট শামসুল আলম বিপ্লবীদের হাতে নিহত হন। 

   শুধু তাই নয় জেলের ভিতরে একটি দুঃসাহসিক হত্যাকান্ড ঘটে। নরেন গোঁসাই নামে এক দুর্বল চিত্ত বিচারাধীন বিপ্লবী স্বীকারোক্তি করে রাজসাক্ষী হবেন জানতে পেরে কানাইলাল দত্ত সত্যেন্দ্রনাথ বসু নামে দুই সহযোগী বিপ্লবী জেলের মধ্যেই নরেন কে গুলি করে হত্যা করেন। বিশ্বের বিপ্লববাদের ইতিহাসে এ এক নজিরবিহীন ঘটনা। বিচারে কানাইলাল ও সত্যেন্দ্রনাথ দুজনেরই ফাঁসি হয়।


বিচারপতি:-

   আলিপুর বোমা মামলার বিচারপতি ছিলেন ইংল্যান্ডে অরবিন্দের ছাত্রজীবনের সহপাঠী পি.সি.বীচ ক্রফট। এছাড়া ছিলেন লাথুনি প্রসাদ ও জানকি প্রসাদ নামে দুজন ভারতীয় বিচারপতি।


বিচারের রায়:-

   ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের আলিপুর বোমার মামলার রায় বেরোয়। এই রায়ে বারীন্দ্রকুমার ঘোষ ও উল্লাসকর দত্তর মৃত্যুদণ্ড হয়। হেমচন্দ্র কানুনগো, অবিনাশ ভট্টাচার্য, ইন্দুভূষণ রায় সহ ১৫ জন বিপ্লবীর বিভিন্ন মেয়াদের দ্বীপান্তর হয়। পরে আবেদনের ভিত্তিতে বারীন্দ্র ও উল্লাস করের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর হয়।

    ব্যারিস্টার চিত্তরঞ্জন দাশের প্রচেষ্টায় অরবিন্দ ঘোষ মুক্তি পান। মুক্তি পেয়ে অরবিন্দ বিপ্লবের সংস্পর্শ ত্যাগ করেন ও পন্ডিচেরিতে অধ্যাত্বসাধনায় ব্রতী হন। তখন থেকে তিনি মহাঋযি অরবিন্দ নামে বিখ্যাত। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ