শচীন্দ্র প্রসাদ বসু: ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকার রূপকার ও অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি

শচীন্দ্র প্রসাদ বসু বুকে ধরে আছেন গোপন পুস্তিকা অনুশীলন সমিতি।


ভূমিকা:
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস কেবল কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের নেপথ্যে এমন অনেক নায়ক রয়েছেন, যাঁদের আত্মত্যাগ এবং অসামান্য অবদান ছাড়া ভারতের স্বাধীনতা অর্জন হয়তো আরও কঠিন হতো। এমনই একজন প্রায় বিস্মৃত অথচ ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন শচীন্দ্র প্রসাদ বসু (Sachindra Prasad Bose)।
ইতিহাসের পাতায় তিনি মূলত ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রসমাজের নেতৃত্ব প্রদান, 'অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি' (Anti-Circular Society) গঠন এবং সর্বোপরি ভারতের বুকে প্রথম জাতীয় পতাকার (The Calcutta Flag) নকশা ও উত্তোলনের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। আসুন, ১২০০-এর বেশি শব্দের এই মেগা আর্টিকেলে আমরা এই মহান দেশপ্রেমিকের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়, তাঁর সংগ্রাম, এবং ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে অত্যন্ত বিশদভাবে আলোচনা করা হলো। 

১. শচীন্দ্র প্রসাদ বসুর প্রারম্ভিক জীবন ও রাজনৈতিক আদর্শ
শচীন্দ্র প্রসাদ বসু ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাংলার এক অত্যন্ত মেধাবী এবং প্রতিবাদী ছাত্রনেতা। তিনি কলকাতার বিখ্যাত রিপন কলেজের (বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) ছাত্র ছিলেন। সেই সময়ে বাংলার রাজনৈতিক গগন জুড়ে বিরাজ করছেন রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। সুরেন্দ্রনাথের বাগ্মিতা, দেশপ্রেম এবং রাজনৈতিক আদর্শ শচীন্দ্র প্রসাদকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তিনি সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কৃষ্ণকুমার মিত্রের মতো প্রবীণ নেতাদের অত্যন্ত স্নেহভাজন ছিলেন এবং খুব অল্প বয়সেই নিজেকে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেছিলেন।

২. বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন (১৯০৫): প্রতিবাদের আগুন ও ছাত্রসমাজের জাগরণ
শচীন্দ্র প্রসাদ বসুর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ১৯০৫ সালে, যখন ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জন হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে ফাটল ধরাতে এবং বাংলার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে ধ্বংস করতে ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' (Partition of Bengal) ঘোষণা করেন।
লর্ড কার্জনের এই ঘোষণায় সমগ্র বাংলা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বাংলার যুব ও ছাত্রসমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসে। ছাত্ররা স্কুল-কলেজ বয়কট করে, বিদেশি দ্রব্য বর্জন করে এবং 'স্বদেশী' বা দেশীয় শিল্পের প্রসারের শপথ গ্রহণ করে। শচীন্দ্র প্রসাদ বসু এই সময় রিপন কলেজের ছাত্র হিসেবে এই ছাত্র আন্দোলনের একেবারে সামনের সারিতে এসে দাঁড়ান। তাঁর জ্বালাময়ী বক্তৃতা এবং অতুলনীয় সাংগঠনিক ক্ষমতা খুব দ্রুত তাঁকে বাংলার ছাত্রসমাজের অন্যতম প্রধান মুখপত্রে পরিণত করে।

৩. ব্রিটিশদের দমননীতি: কুখ্যাত 'কার্লাইল সার্কুলার' (The Carlyle Circular)
বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে ছাত্রদের এই স্বতঃস্ফূর্ত এবং বিপুল অংশগ্রহণ দেখে ব্রিটিশ সরকার চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ছাত্রদের এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য ১৯০৫ সালের ১০ই অক্টোবর ব্রিটিশ সরকারের মুখ্যসচিব আর. ডব্লিউ. কার্লাইল (R. W. Carlyle) এক চরম দমনমূলক ও স্বৈরাচারী নির্দেশিকা জারি করেন, যা ইতিহাসে 'কার্লাইল সার্কুলার' (Carlyle Circular) নামে কুখ্যাত।

এই সার্কুলারে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়:
  কোনো স্কুল বা কলেজের ছাত্র কোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা, সমিতি বা মিছিলে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
  বন্দে মাতরম ধ্বনি দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি বলে গণ্য হবে।
  যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র এই নির্দেশ অমান্য করে, তবে সেই স্কুল বা কলেজের সরকারি অনুদান (Grant-in-aid) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি (Affiliation) অবিলম্বে বাতিল করা হবে।
  অবাধ্য ছাত্রদের স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং তাদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ করা হবে না।
ব্রিটিশদের ধারণা ছিল, শিক্ষাজীবন এবং ভবিষ্যতের ভয় দেখালে ছাত্ররা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবে। কিন্তু ফল হলো ঠিক তার উল্টো।

৪. শচীন্দ্র প্রসাদ বসু এবং 'অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি' গঠন
কার্লাইল সার্কুলারের হুমকিতে বাংলার ছাত্রসমাজ ভয় পাওয়ার বদলে আরও বেশি বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। এই স্বৈরাচারী নির্দেশের সরাসরি পালটা জবাব দেওয়ার জন্য শচীন্দ্র প্রসাদ বসু এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
১৯০৫ সালের ৪ঠা নভেম্বর, প্রখ্যাত জাতীয়তাবাদী নেতা কৃষ্ণকুমার মিত্রের সভাপতিত্বে এবং শচীন্দ্র প্রসাদ বসুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কলকাতার কলেজ স্কোয়ারে গঠিত হয় 'অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি' (Anti-Circular Society)। শচীন্দ্র প্রসাদ বসু স্বয়ং এই সংগঠনের সম্পাদক (Secretary) নির্বাচিত হন।
অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটির প্রধান কার্যাবলী ছিল:
১. বিকল্প শিক্ষার ব্যবস্থা: যে সমস্ত ছাত্র কার্লাইল সার্কুলার অমান্য করার কারণে স্কুল-কলেজ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিল, তাদের জন্য বিকল্প জাতীয় শিক্ষার (National Education) ব্যবস্থা করা।
২. স্বদেশী প্রচার: ছাত্রদের দল গঠন করে বাংলার গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিদেশি দ্রব্য বর্জনের (Boycott) বার্তা প্রচার করা এবং দেশীয় চরকায় বোনা কাপড় ও স্বদেশী দ্রব্যের বিক্রি বাড়ানো।
৩. বন্দে মাতরম গান: রাস্তায় রাস্তায় নির্ভয়ে 'বন্দে মাতরম' ধ্বনি দিয়ে ব্রিটিশ আইনের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা।
শচীন্দ্র প্রসাদ বসুর নেতৃত্বে অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি অল্পদিনের মধ্যেই বাংলার সবচেয়ে শক্তিশালী ছাত্র সংগঠনে পরিণত হয় এবং বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনকে এক অদম্য রূপ দান করে।

৫. ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকার নকশা ও উত্তোলন (The Calcutta Flag, 1906)
শচীন্দ্র প্রসাদ বসুর জীবনের সবচেয়ে গৌরবময় এবং ঐতিহাসিক কীর্তিটি হলো পরাধীন ভারতের বুকে প্রথম জাতীয় পতাকার (National Flag) নকশা তৈরি এবং তা উত্তোলন করা।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের প্রথম বার্ষিকী পালন করার জন্য এবং স্বদেশী আন্দোলনকে আরও তীব্র করতে ১৯০৬ সালের ৭ই আগস্ট কলকাতার পার্সিবাগান স্কোয়ারে (বর্তমানে সাধক রামপ্রসাদ উদ্যান বা গ্রিয়ার পার্ক) এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। শচীন্দ্র প্রসাদ বসু এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুকুমার মিত্র (কৃষ্ণকুমার মিত্রের পুত্র) অনুভব করেছিলেন যে, একটি স্বাধীন ও ঐক্যবদ্ধ জাতির সবচেয়ে বড় প্রতীক হলো তার নিজস্ব পতাকা। ব্রিটিশদের 'ইউনিয়ন জ্যাক'-এর নিচে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা আন্দোলন সম্ভব নয়।
এই ভাবনা থেকেই তাঁরা একটি পতাকার নকশা তৈরি করেন, যা ইতিহাসে 'ক্যালকাটা ফ্ল্যাগ' (Calcutta Flag) বা 'স্বদেশী পতাকা' নামে পরিচিত।
প্রথম পতাকার নকশা ও তাৎপর্য:
শচীন্দ্র প্রসাদ বসু রচিত এই পতাকায় তিনটি সমান অনুভূমিক (Horizontal) রঙের ব্যান্ড বা স্ট্রাইপ ছিল:
  ওপরের অংশ (সবুজ): পতাকার একেবারে ওপরে ছিল সবুজ রং, যার ওপর আটটি অর্ধ-প্রস্ফুটিত সাদা পদ্মফুল (Lotus) আঁকা ছিল। এই আটটি পদ্ম তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের আটটি প্রদেশকে (Provinces) নির্দেশ করত।
  মাঝের অংশ (হলুদ): মাঝখানের ব্যান্ডটি ছিল গাঢ় হলুদ রঙের। এই হলুদ অংশের ঠিক মাঝখানে গাঢ় নীল রঙের দেবনাগরী হরফে লেখা ছিল— "বন্দে মাতরম"। এটি ছিল সমগ্র ভারতের আত্মিক ঐক্যের স্লোগান।
  নিচের অংশ (লাল): পতাকার একদম নিচে ছিল লাল রং। এই লাল অংশের বাঁ-দিকে একটি সাদা সূর্য এবং ডানদিকে একটি অর্ধচন্দ্র ও একটি তারা (Crescent moon and star) আঁকা ছিল। সূর্য ছিল হিন্দু ধর্মের প্রতীক এবং অর্ধচন্দ্র ও তারা ছিল ইসলাম ধর্মের প্রতীক। অর্থাৎ, হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক চরম বার্তা এই পতাকায় নিহিত ছিল।
১৯০৬ সালের ৭ই আগস্ট পার্সিবাগান স্কোয়ারের সেই বিশাল জনসমুদ্রে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে শচীন্দ্র প্রসাদ বসু ভারতের এই প্রথম জাতীয় পতাকাটি সগর্বে উত্তোলন করেন। এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অহংকারের ওপর এক বিরাট আঘাত এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদের এক চরম বিজয়।
(পরবর্তীকালে ১৯০৭ সালে ম্যাডাম ভিকাজি কামা জার্মানিতে যে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন, তা মূলত শচীন্দ্র প্রসাদ বসুর এই পতাকারই একটি পরিমার্জিত রূপ ছিল।)

৬. ব্রিটিশদের রোষানল, গ্রেপ্তার ও নির্বাসন (Deportation)
স্বদেশী আন্দোলন, অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটির বিস্তার এবং প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ফলে শচীন্দ্র প্রসাদ বসু ব্রিটিশ পুলিশের চোখের বালিতে পরিণত হন। তাঁর জ্বালাময়ী বক্তৃতা বাংলার যুবকদের সশস্ত্র বিপ্লবের দিকেও অনুপ্রাণিত করছিল।
বাংলার এই চরমপন্থী আন্দোলনকে দমন করার জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৯০৮ সালে এক ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে। ১৮১৮ সালের ৩ নম্বর রেগুলেশন (Regulation III of 1818) নামক এক বর্বরোচিত ও স্বৈরাচারী আইনের প্রয়োগ করে ব্রিটিশরা বিনা বিচারে বাংলার ৯ জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ৯ জনের মধ্যে ছিলেন অশ্বিনীকুমার দত্ত, কৃষ্ণকুমার মিত্র, সুবোধ মল্লিক এবং আমাদের তরুণ ছাত্রনেতা শচীন্দ্র প্রসাদ বসু। তাঁকে গ্রেপ্তার করে সুদূর পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি জেলে (বর্তমানে পাকিস্তানে) নির্বাসিত (Deported) করা হয়। জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে তাঁকে দিনের পর দিন অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল। কিন্তু কোনো অত্যাচারই এই বীর দেশপ্রেমিকের মনোবল ভাঙতে পারেনি।

৭. পরবর্তী জীবন ও নীরব আত্মত্যাগ
কারাবাস থেকে মুক্তি পাওয়ার পর শচীন্দ্র প্রসাদ বসু কিছুটা শারীরিক ভাবে ভেঙে পড়লেও তাঁর আদর্শ থেকে কখনোই চ্যুত হননি। তবে ততদিনে ভারতের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অনেক পরিবর্তন চলে এসেছিল। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের অহিংস আন্দোলন শুরু হওয়ায়, শচীন্দ্র প্রসাদ বসুর মতো প্রথম যুগের বিপ্লবী এবং ছাত্রনেতারা ধীরে ধীরে প্রচারের আলো থেকে দূরে সরে যান।
তিনি তাঁর জীবনের বাকি সময়টা মূলত সমাজসেবা, শিক্ষা বিস্তার এবং নীরবে দেশের কাজ করে কাটিয়ে দেন। ক্ষমতার মোহ বা পদের লালসা তাঁকে কখনোই স্পর্শ করতে পারেনি। ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই মহান বিপ্লবীর জীবনাবসান ঘটে।

৮. ঐতিহাসিক মূল্যায়ন: কেন তাঁকে মনে রাখা উচিত?
আজকের দিনে লাল কেল্লায় যখন তেরঙ্গা পতাকা সগর্বে উড়ে, তখন আমরা অনেকেই ভুলে যাই যে এই পতাকার প্রথম বীজটি রোপণ করেছিলেন এক তরুণ বাঙালি ছাত্রনেতা। শচীন্দ্র প্রসাদ বসুর ঐতিহাসিক অবদানগুলোকে আমরা কয়েকটি বিন্দুতে মূল্যায়ন করতে পারি:
১. প্রথম পতাকার জনক: পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া যে তেরঙ্গা পতাকার নকশা ১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন, তার প্রথম অনুপ্রেরণা ও আদি রূপটি ১৯০৬ সালে শচীন্দ্র প্রসাদ বসুই তৈরি করেছিলেন।
২. ছাত্র আন্দোলনের পথিকৃৎ: ছাত্রদের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি গঠন করে তিনি যে সাহস দেখিয়েছিলেন, তা আজও সমগ্র ভারতের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
৩. জাতীয় শিক্ষার প্রসার: ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠনে তাঁর পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
৪. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: তাঁর পতাকায় সূর্য ও অর্ধচন্দ্রের সহাবস্থান প্রমাণ করে যে, তিনি সেই সময়েই একটি ধর্মনিরপেক্ষ এবং ঐক্যবদ্ধ ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
উপসংহার
শচীন্দ্র প্রসাদ বসু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই অজানা ও অনালোচিত অধ্যায়ের এক নীরব নায়ক, যাঁর রক্ত ও ঘামের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের স্বাধীন ভারত। ইতিহাস হয়তো তাঁকে পাঠ্যপুস্তকের প্রথম পাতায় জায়গা দেয়নি, কিন্তু ১৯০৬ সালের ৭ই আগস্ট কলকাতার আকাশে প্রথমবার উড়ে ওঠা সেই সবুজ-হলুদ-লাল পতাকার প্রতিটি সুতোয় তাঁর নাম চিরকাল অমর হয়ে থাকবে। আজকের স্বাধীন ভারতের নাগরিকদের, বিশেষ করে যুবসমাজের উচিত এই বিস্মৃত বীরের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা এবং তাঁর দেশপ্রেমের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করা।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ