ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ওয়াভেল পরিকল্পনা (১৯৪৫) ও সিমলা সম্মেলন

লর্ড ওয়াভেল এর চিত্র

ভূমিকা:

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৪৫ সালটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সময়েই ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যা ইতিহাসে 'ওয়াভেল পরিকল্পনা' (Wavell Plan 1945) নামে পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে, ভারতের চরম রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর উদ্দেশ্যে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড আর্কিবল্ড ওয়াভেল এই যুগান্তকারী প্রস্তাব পেশ করেন। তাঁর এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্যই বিখ্যাত সিমলা সম্মেলন (Simla Conference) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওয়াভেল পরিকল্পনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, এর প্রধান প্রস্তাবনা, সিমলা সম্মেলনের ঘটনাপ্রবাহ এবং এর ব্যর্থতার কারণ ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।


১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (Historical Background):

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা এক অভূতপূর্ব জটিলতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। এই সময়কালের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ওয়াভেল পরিকল্পনা প্রণয়নে অনুঘটকের কাজ করেছিল:

  'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের প্রভাব: ১৯৪২ সালে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে শুরু হওয়া 'ভারত ছাড়ো' (Quit India) আন্দোলনের ফলে গোটা ভারত উত্তাল হয়ে উঠেছিল। এই আন্দোলন দমন করতে ব্রিটিশ সরকার জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সারির প্রায় সব নেতাকে (গান্ধীজী, জওহরলাল নেহেরু, সর্দার প্যাটেল, মৌলানা আজাদ) জেলে বন্দি করে। ফলে ব্রিটিশ সরকার এবং ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী এক অচলাবস্থা তৈরি হয়।

  ক্রিপস মিশনের ব্যর্থতা: ১৯৪২ সালে স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসের নেতৃত্বে আসা মিশন ভারতীয়দের পূর্ণ স্বাধীনতার বদলে 'ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস' দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তা ব্যর্থ হয়। এতে ভারতীয়দের মনে ব্রিটিশদের উদ্দেশ্য নিয়ে চরম অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল।

  অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও দুর্ভিক্ষ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ব্রিটিশ অর্থনীতি ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এর প্রভাব পড়েছিল ভারতেও। বিশেষ করে ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ বাংলার দুর্ভিক্ষ (পঞ্চাশের মন্বন্তর) ব্রিটিশ প্রশাসনের চরম ব্যর্থতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিল।

  আন্তর্জাতিক চাপ: বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির প্রধান দুই দেশ—আমেরিকা (মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট) এবং চীন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছিল যাতে তারা দ্রুত ভারতের রাজনৈতিক সমস্যার একটি সম্মানজনক সমাধান করে ভারতীয়দের বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির পক্ষে পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগাতে পারে।


২. লর্ড আর্কিবল্ড ওয়াভেলের আগমন ও উদ্যোগ:

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ১৯৪৩ সালের অক্টোবর মাসে লর্ড লিনলিথগোর কার্যকাল শেষ হলে, সামরিক পটভূমি থেকে আসা লর্ড আর্কিবল্ড ওয়াভেল (Lord Archibald Wavell) ভারতের নতুন ভাইসরয় বা বড়লাট হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি অনুধাবন করেন যে, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এভাবে চলতে থাকলে ভারতে ব্রিটিশ শাসন টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হবে।

ভারতীয়দের হাতে ধীরে ধীরে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য একটি অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করার কথা ভাবেন তিনি। এই লক্ষ্যে তিনি ১৯৪৫ সালের মার্চ মাসে লন্ডনে যান এবং ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার (বিশেষ করে ভারত সচিব লর্ড প্যাথিক লরেন্স) সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। দশ সপ্তাহ ধরে আলোচনার পর তিনি ১৯৪৫ সালের ১৪ জুন ভারতে ফিরে আসেন এবং রেডিওতে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তাঁর নতুন রাজনৈতিক প্রস্তাবনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। ইতিহাসে এটিই "ওয়াভেল পরিকল্পনা” (Wavell Plan) নামে সমধিক পরিচিত।


৩. ওয়াভেল পরিকল্পনার প্রধান প্রস্তাবনাসমূহ (Key Proposals of Wavell Plan):

ভারতের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের জন্য ওয়াভেল পরিকল্পনায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছিল:

  কার্যনির্বাহী পরিষদের পুনর্গঠন: ভাইসরয়ের কার্যনির্বাহী পরিষদকে (Executive Council) সম্পূর্ণ নতুনভাবে গঠন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। নতুন সংবিধান রচিত না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষদই একটি 'অস্থায়ী জাতীয় সরকার' (Provisional National Government) হিসেবে কাজ করবে।

  ভারতীয়দের নিরঙ্কুশ আধিপত্য: এই অন্তর্বর্তী সরকারে ভাইসরয় এবং সেনাপ্রধান (Commander-in-Chief) বাদে নতুন পরিষদের সমস্ত সদস্য পদ ভারতীয়দের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। অর্থাৎ, প্রশাসন পরিচালনার মূল দায়িত্ব ভারতীয়দের হাতেই তুলে দেওয়া হবে।

  সমতাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব (Equal Representation): হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সমস্যার সমাধানকল্পে এই পরিকল্পনায় একটি বড় প্রস্তাব রাখা হয়। বলা হয়, নতুন শাসন পরিষদে বর্ণহিন্দু (Caste Hindus) এবং মুসলমানদের জন্য সমান সংখ্যক আসন বা প্রতিনিধি রাখা হবে।

  সংখ্যালঘুদের স্থান: হিন্দু ও মুসলমানের পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যেমন—তপশিলি জাতি (Depressed Classes), শিখ এবং ভারতীয় খ্রিস্টানদেরও কাউন্সিলে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হবে।

  পররাষ্ট্র দপ্তর হস্তান্তর: ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর বা বিদেশমন্ত্রক (External Affairs), যা এতদিন ব্রিটিশদের হাতেই কুক্ষিগত ছিল, তা প্রথমবারের মতো একজন ভারতীয় সদস্যের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  ভাইসরয়ের ভেটো ক্ষমতা (Veto Power): ভাইসরয়ের হাতে বিশেষ সিদ্ধান্ত নাকচ করার বা 'ভেটো' দেওয়ার ক্ষমতা বহাল থাকলেও, প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে তিনি অযৌক্তিকভাবে বা দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে এই ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করবেন না।

  ভবিষ্যৎ সংবিধান রচনা: ওয়াভেল পরিষ্কার করে দেন যে এই ব্যবস্থাটি একটি সাময়িক পদক্ষেপ মাত্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, ভারতীয় রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ভারতের জন্য একটি নতুন ও স্থায়ী সংবিধান রচনা করবেন।


৪. সিমলা সম্মেলন (The Simla Conference - ১৯৪৫):

ওয়াভেল পরিকল্পনার প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়িত করার জন্য এবং ভারতীয় নেতাদের মতামত নিতে লর্ড ওয়াভেল একটি সর্বদলীয় সম্মেলনের ডাক দেন। ১৯৪৫ সালের ২৫ জুন হিমাচল প্রদেশের তৎকালীন গ্রীষ্মকালীন রাজধানী সিমলায় এই ঐতিহাসিক সম্মেলন শুরু হয়।

ভারতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় ২১ জন রাজনৈতিক নেতাকে এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কংগ্রেস নেতাদের আগেই জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল যাতে তাঁরা এই সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন।


সম্মেলনে প্রধান রাজনৈতিক দল ও নেতাদের ভূমিকা:

  জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব: তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি মৌলানা আবুল কালাম আজাদ এই সম্মেলনে জাতীয় কংগ্রেসের প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনার টেবিলে নেতৃত্ব দেন। কংগ্রেস একটি ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে দাবি করে যে, তারা ভারতের সমস্ত ধর্মের ও বর্ণের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে, কেবল হিন্দুদের নয়।

  মহাত্মা গান্ধীর অবস্থান: সিমলা সম্মেলন চলাকালীন মহাত্মা গান্ধী সিমলাতেই উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি সরাসরি আলোচনার টেবিলে বা সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বৈঠকগুলোতে অংশ নেননি। তিনি নেপথ্যে থেকে কংগ্রেস নেতাদের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন।

  মুসলিম লীগের ভূমিকা: মুসলিম লীগের নেতৃত্বে ছিলেন মহম্মদ আলী জিন্নাহ। তিনি এই সম্মেলনে অত্যন্ত আগ্রাসী ভূমিকা পালন করেন এবং দাবি করেন যে, মুসলিম লীগই হলো ভারতের সমস্ত মুসলমানদের একমাত্র ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিনিধি।

সিমলা সম্মেলনের একটি ছবিতে মাঝখানে টেবিলের মাথায় ইউনিফর্ম পরে বসে রয়েছেন ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেল।

৫. সিমলা সম্মেলন ও ওয়াভেল পরিকল্পনার ব্যর্থতার মূল কারণ:

সম্মেলনটি খুব আশাব্যঞ্জকভাবে শুরু হলেও, মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে চরম মতবিরোধের ফলে তা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। এই ঐতিহাসিক সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ার পেছনে মূলত নিম্নলিখিত কারণগুলো দায়ী ছিল:

১) জিন্নাহর একগুঁয়ে দাবি (Jinnah's Veto):

সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ ছিল মহম্মদ আলী জিন্নাহর অনড় অবস্থান। তিনি দাবি করেন যে, ভারতের সব মুসলমানের একমাত্র প্রতিনিধি কেবল 'মুসলিম লীগ'। তাই ভাইসরয়ের কাউন্সিলে মুসলমানদের জন্য বরাদ্দকৃত সব আসনে (৫টি আসন) সদস্য মনোনয়নের একমাত্র অধিকার মুসলিম লীগেরই থাকবে। অন্য কোনো দল (এমনকি কংগ্রেসও) কোনো মুসলমান সদস্য পাঠাতে পারবে না।

২) কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান:

জাতীয় কংগ্রেস জিন্নাহর এই অগণতান্ত্রিক দাবি কঠোরভাবে নাকচ করে দেয়। কংগ্রেস যুক্তি দেয় যে, তারা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের দল নয়, তারা সমগ্র ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে। কংগ্রেসের মতে, তারা চাইলে তাদের জন্য বরাদ্দ কোটা থেকে যেকোনো ধর্মের এমনকি মুসলিম নেতাকেও কাউন্সিলে পাঠাতে পারে। উল্লেখ্য, সেই সময়ে কংগ্রেসের সভাপতিই ছিলেন একজন মুসলিম (মৌলানা আজাদ)। কংগ্রেস যদি জিন্নাহর দাবি মেনে নিত, তবে তারা কেবল বর্ণহিন্দুদের দলে পরিণত হতো, যা তাদের ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের পরিপন্থী।

৩) পাঞ্জাবের ইউনিয়নিস্ট পার্টির দাবি:

পাঞ্জাবের তৎকালীন শক্তিশালী আঞ্চলিক দল 'ইউনিয়নিস্ট পার্টি' (Unionist Party)-র নেতা খিজির হায়াত খান তিওয়ানা দাবি করেন যে, মুসলিম কোটার অন্তত একটি আসন পাঞ্জাবের মুসলমানদের জন্য বরাদ্দ করতে হবে, কারণ বিশ্বযুদ্ধে পাঞ্জাবের মুসলমানরা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে প্রচুর অবদান রেখেছে। জিন্নাহ এই প্রস্তাবেরও তীব্র বিরোধিতা করেন, কারণ ওই সদস্য মুসলিম লীগ থেকে নির্বাচিত হতেন না।

৪) লর্ড ওয়াভেলের নতিস্বীকার (British Appeasement):

কংগ্রেস, মুসলিম লীগ এবং অন্যান্য দলের এই জটিল দ্বন্দ্ব সমাধান করতে লর্ড ওয়াভেল চরমভাবে ব্যর্থ হন। ব্রিটিশ সরকার সেই মুহূর্তে মুসলিম লীগকে চটাতে চাইছিল না। তাই জিন্নাহর একগুঁয়ে দাবির সামনে কার্যত নতিস্বীকার করে লর্ড ওয়াভেল ১৯৪৫ সালের ১৪ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে দেন যে সিমলা সম্মেলন ব্যর্থ হয়েছে।


৬. ওয়াভেল পরিকল্পনা ও সিমলা সম্মেলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব (Historical Significance):

ওয়াভেল পরিকল্পনা এবং সিমলা সম্মেলন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলেও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে:

  জিন্নাহর রাজনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধি: সিমলা সম্মেলনের ব্যর্থতা মহম্মদ আলী জিন্নাহর রাজনৈতিক মর্যাদাকে রাতারাতি শিখরে পৌঁছে দেয়। প্রমাণ হয়ে যায় যে জিন্নাহর সম্মতি ছাড়া ভারতে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। জিন্নাহর 'ভেটো' প্রয়োগ করার ক্ষমতা মুসলিম লীগের শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

  সাম্প্রদায়িকতার প্রসার: কাউন্সিলে হিন্দু ও মুসলমানদের জন্য 'সমান আসন'-এর প্রস্তাবটি ছিল ব্রিটিশদের বিভাজন নীতিরই একটি সূক্ষ্ম রূপ। ভারতের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের সঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলমানদের সমান আসন দেওয়ার প্রস্তাব সাম্প্রদায়িক বৈষম্যকে আরও উসকে দেয়।

  কংগ্রেসের মোহভঙ্গ: এই সম্মেলনের পর কংগ্রেস বুঝতে পারে যে, ব্রিটিশরা কখনোই মুসলিম লীগকে এড়িয়ে ভারতের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না।

  পাকিস্তান গঠনের পথ প্রশস্ত: ওয়াভেল পরিকল্পনার ব্যর্থতা স্পষ্ট করে দেয় যে হিন্দু ও মুসলমান দুটি ভিন্ন জাতি এবং তারা এক ছাতার তলায় কাজ করতে পারবে না (দ্বি-জাতি তত্ত্ব)। শেষমেশ, এই ব্যর্থতাই ভারতের বিভাজন (Partition of India) এবং স্বাধীন পাকিস্তান গঠনের পথকে সহজ, অনিবার্য ও ত্বরান্বিত করেছিল।


উপসংহার:

পরিশেষে বলা যায়, ওয়াভেল পরিকল্পনা ছিল ব্রিটিশ সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি আন্তরিক অথচ ত্রুটিপূর্ণ প্রচেষ্টা। লর্ড ওয়াভেল যদি জিন্নাহর অযৌক্তিক দাবির কাছে নতিস্বীকার না করে অন্যান্য দলের মতামতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সাহস দেখাতেন, তবে হয়তো ভারতের ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতে পারত। সিমলা সম্মেলনের এই চরম ব্যর্থতাই ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন, গণপরিষদ গঠন এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৪৭ সালের রক্তক্ষয়ী দেশভাগের প্রেক্ষাপট রচনা করেছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ