রাওলাট আইন (১৯১৯): ইতিহাস, কারণ, শর্তাবলী এবং ভারতীয়দের প্রতিক্রিয়া

কলকাতা চৌরঙ্গী রোড, ১০ এপ্রিল ১৯১৯। ব্রিটিশ অফিসার কাঠের মঞ্চে দাঁড়িয়ে।

পটভূমি:

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের দমনের জন্য অসংখ্য কালাকানুন বা দমনমূলক আইন তৈরি করেছিল। কিন্তু ১৯১৯ সালের 'রাওলাট আইন' (Rowlatt Act) ছিল সেই সমস্ত স্বৈরাচারী আইনের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর, অমানবিক এবং নগ্ন রূপ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতীয়রা যখন ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসন বা রাজনৈতিক অধিকারের আশা করেছিল, তখন ব্রিটিশরা উপহারস্বরূপ ভারতীয়দের হাতে তুলে দিয়েছিল এই বর্বরোচিত আইন, যা ভারতীয়দের ন্যূনতম মানবাধিকারটুকুও কেড়ে নিয়েছিল।

তৎকালীন সময়ে এই আইনকে 'কালো আইন' (Black Act) আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। এই আইনের বিরুদ্ধেই মহাত্মা গান্ধী তাঁর প্রথম সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলন শুরু করেন, যা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। আসুন, ইতিহাসের পাতা থেকে এই কুখ্যাত রাওলাট আইনের পটভূমি, এর শর্তাবলী এবং ভারতীয় রাজনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।


১. ঐতিহাসিক পটভূমি: প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও ব্রিটিশদের ভয় (Historical Background)

রাওলাট আইন কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। এর পেছনে ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পরিস্থিতি এবং ভারতে ক্রমবর্ধমান বিপ্লবী কার্যকলাপ।

ক) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভারতীয়দের মোহভঙ্গ

১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে, ভারতের জাতীয় কংগ্রেস এবং সাধারণ মানুষ ব্রিটিশ সরকারকে অর্থ, অস্ত্র এবং সৈন্য দিয়ে বিপুলভাবে সাহায্য করেছিল। মহাত্মা গান্ধীর মতো নেতারাও ভারতীয় যুবকদের ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ভারতীয়দের আশা ছিল, এই বিপদের দিনে ব্রিটিশদের পাশে দাঁড়ালে, যুদ্ধের পর তারা ভারতকে 'ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস' বা স্বায়ত্তশাসনের অধিকার দেবে। কিন্তু ১৯১৮ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ব্রিটিশরা তাদের সেই প্রতিশ্রুতি বেমালুম ভুলে যায়।

খ) 'ডিফেন্স অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট' এবং বিপ্লবী ভীতি

যুদ্ধের সময় (১৯১৫ সালে) ব্রিটিশ সরকার ভারতে বিপ্লবী কার্যকলাপ দমনের জন্য 'ডিফেন্স অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট' (Defence of India Act, 1915) জারি করেছিল। এটি ছিল একটি জরুরি আইন, যার মাধ্যমে সন্দেহভাজন যেকোনো ব্যক্তিকে বিনা বিচারে বন্দি করা যেত।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই জরুরি আইনের মেয়াদ শেষ হতে চলেছিল। কিন্তু ততদিনে বাংলা, পাঞ্জাব এবং মহারাষ্ট্রে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন (যেমন—গদর পার্টি, যুগান্তর ও অনুশীলন সমিতি) মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। ব্রিটিশরা ভয় পেয়েছিল যে, জরুরি আইন উঠে গেলে এই বিপ্লবীরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দেবে। তাই তারা শান্তিকালীন সময়েও যুদ্ধকালীন আইনের মতো একটি স্থায়ী ও কঠোর দমনমূলক আইন তৈরির ষড়যন্ত্র শুরু করে।


২. রাওলাট কমিশন গঠন এবং আইনের খসড়া (The Rowlatt Committee)

ভারতে তথাকথিত 'সন্ত্রাসবাদী' বা বিপ্লবী কার্যকলাপ কীভাবে দমন করা যায়, তার উপায় খোঁজার জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৯১৭ সালের ১০ই ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের হাইকোর্টের বিচারপতি স্যার সিডনি রাওলাটের (Sir Sidney Rowlatt) সভাপতিত্বে একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটি 'সিডনি রাওলাট কমিশন' বা 'সিডিশন কমিটি' (Sedition Committee) নামে পরিচিত।

১৯১৮ সালের এপ্রিলে এই কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেয়। কমিটিতে কোনো ভারতীয় সদস্যের মতামতের তোয়াক্কা না করেই, অত্যন্ত কঠোর এবং অমানবিক কিছু সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশগুলোর ওপর ভিত্তি করেই ১৯১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে দুটি বিল পেশ করা হয়।

ভারতীয় সদস্যদের (যেমন—মদনমোহন মালব্য, মহম্মদ আলী জিন্নাহ, মজহার-উল-হক) তীব্র ও সর্বসম্মত বিরোধিতা সত্ত্বেও ব্রিটিশ সরকার তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ১৯১৯ সালের ১৮ই মার্চ বিলটি পাস করিয়ে নেয়। সরকারিভাবে এই আইনের নাম দেওয়া হয় "দ্য অ্যানার্কিক্যাল অ্যান্ড রেভোলিউশনারি ক্রাইমস অ্যাক্ট, ১৯১৯" (The Anarchical and Revolutionary Crimes Act of 1919), যা ইতিহাসে 'রাওলাট আইন' নামে কুখ্যাত।


৩. রাওলাট আইনের প্রধান ও ভয়ংকর শর্তাবলী (Draconian Provisions of the Act)

এই আইনের শর্তগুলো ছিল এতটাই অমানবিক যে, তা যে কোনো সভ্য সমাজের বিচারব্যবস্থার সম্পূর্ণ পরিপন্থী ছিল। এই আইনের প্রধান দিকগুলো ছিল নিম্নরূপ:


ক. বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার (Arrest without Warrant):

ব্রিটিশ পুলিশ শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে, বিনা ওয়ারেন্টে বা পরোয়ানায় যেকোনো ভারতীয়কে যেকোনো জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করতে পারবে।


খ. বিনা বিচারে আটক (Detention without Trial):

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে কোনো রকম বিচারপ্রক্রিয়া ছাড়াই সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত জেলে আটকে রাখা যাবে। অর্থাৎ, বন্দি ব্যক্তিকে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।


গ. গোপন বিচার ব্যবস্থা (Secret Trial):

যদি বিচার হয়ও, তবে তা হবে অত্যন্ত গোপনে। তিনজন হাইকোর্টের বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এই বিচার হবে, যেখানে বাইরের কোনো ব্যক্তি বা সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার থাকবে না।


ঘ. আপিলের অধিকার হরণ (No Right to Appeal):

এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কোনো ব্যক্তিকে যে শাস্তি দেবে, সেটাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো উচ্চ আদালতে আপিল করার অধিকার ভারতীয়দের থাকবে না।


ঙ. প্রমাণের নিয়মে পরিবর্তন (Violation of Evidence Act):

আদালতে প্রমাণ দাখিলের যে সাধারণ আইন (Indian Evidence Act) ছিল, তা এই আইনে গ্রাহ্য করা হয়নি। পুলিশের খাতায় থাকা যেকোনো সাধারণ তথ্যকেও এই আইনে 'প্রমাণ' হিসেবে ধরে নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়।


চ. সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ (Press Censorship):

পত্রপত্রিকায় ব্রিটিশ বিরোধী কোনো লেখা বা খবর ছাপানো সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করা হয় এবং পুলিশের হাতে প্রেস বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।

এই আইনের চরম স্বৈরাচারী রূপ দেখে ভারতীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তৎকালীন সময়ে এই আইনের প্রতিবাদে যে স্লোগানটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছিল তা হলো— "নো ভকিল, নো দলিল, নো আপিল" (No Dalil, No Vakil, No Appeal)। অর্থাৎ, এই আইনে উকিল ডাকার, প্রমাণ দেওয়ার বা আপিল করার কোনো অধিকারই নেই।


৪. ভারতীয়দের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং ইস্তফা (Reactions of Indian Leaders)

রাওলাট আইন পাস হওয়ার সাথে সাথেই সমগ্র ভারতজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে যে সমস্ত ভারতীয় সদস্য ছিলেন, তাঁরা এই আইনের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন।

মহম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁর পদত্যাগপত্রে ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড চেমসফোর্ডকে লিখেছিলেন: "যে সরকার শান্তিকালীন সময়ে এহেন একটি রক্তপিপাসু ও স্বৈরাচারী আইন পাস করতে পারে, সেই সরকারের সভ্য সরকার হিসেবে দাবি করার কোনো অধিকার নেই। আমি আশা করি, আপনি অন্তত এই আইনটিকে বাতিল করার ব্যবস্থা করবেন।"

জিন্নাহর পাশাপাশি পণ্ডিত মদনমোহন মালব্য এবং মজহার-উল-হক-এর মতো প্রবীণ নেতারাও কাউন্সিল থেকে ইস্তফা দিয়ে ব্রিটিশদের এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানান।


৫. মহাত্মা গান্ধী এবং 'রাওলাট সত্যাগ্রহ' (The Rowlatt Satyagraha)

রাওলাট আইন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক যুগান্তকারী পটপরিবর্তন ঘটায়। এই সময় ভারতের রাজনৈতিক মঞ্চে প্রবেশ করেন মহাত্মা গান্ধী। এর আগে তিনি চম্পারণ, খেদা বা আহমেদাবাদে স্থানীয় স্তরে আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু রাওলাট আইনের ভয়াবহতা দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে, এখন সমগ্র ভারতকে একজোট হয়ে লড়তে হবে।

গান্ধীজি ১৯১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বোম্বাইয়ে 'সত্যাগ্রহ সভা' স্থাপন করেন এবং রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী এক অহিংস গণ-আন্দোলনের ডাক দেন, যা 'রাওলাট সত্যাগ্রহ' নামে পরিচিত। এটিই ছিল ভারতের বুকে প্রথম প্রকৃত সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলন।


সত্যাগ্রহের রূপরেখা:

গান্ধীজি ১৯১৯ সালের ৬ই এপ্রিল দেশজুড়ে 'হরতাল' বা ধর্মঘটের ডাক দেন। ওইদিন সারা দেশের মানুষ উপবাস করবে, প্রার্থনা করবে এবং সমস্ত দোকানপাট ও কলকারখানা বন্ধ রেখে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাবে।

৬ই এপ্রিলের এই হরতালে অভূতপূর্ব সাড়া মেলে। হিন্দু ও মুসলিমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। বোম্বাই, কলকাতা, দিল্লি, মাদ্রাজ এবং পাঞ্জাবের মতো স্থানে জনজীবন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। ব্রিটিশ সরকার এই ব্যাপক ঐক্য দেখে প্রমাদ গোনে।


৬. পাঞ্জাবের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি এবং জালিয়ানওয়ালাবাগ (Impact in Punjab & Jallianwala Bagh)

রাওলাট সত্যাগ্রহের সবচেয়ে তীব্র প্রভাব পড়েছিল পাঞ্জাবে। সেখানে হিন্দু, মুসলিম এবং শিখদের মধ্যে যে অভূতপূর্ব ঐক্য দেখা গিয়েছিল, তা ব্রিটিশ প্রশাসনকে আতঙ্কিত করে তোলে। পাঞ্জাবের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মাইকেল ও'ডায়ার এই আন্দোলন দমন করার জন্য চরম নিষ্ঠুরতার পথ বেছে নেন।

১৯১৯ সালের ১০ই এপ্রিল পাঞ্জাবের দুই অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা—ডাক্তার সত্যপাল এবং ডাক্তার সইফুদ্দিন কিচলু-কে বিনা কারণে এই রাওলাট আইনের অধীনে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নির্বাসিত করা হয়। এর প্রতিবাদে অমৃতসরের সাধারণ মানুষ যখন শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করে, তখন পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়, যাতে বেশ কয়েকজন নিহত হন। ক্ষুব্ধ জনতা তখন সরকারি ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে অমৃতসরের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় নির্মম সেনা আধিকারিক জেনারেল ডায়ার-এর হাতে। এরপরই আসে ইতিহাসের সেই কালো দিন—১৩ই এপ্রিল, ১৯১৯। বৈশাখী উৎসবের দিন জালিয়ানওয়ালাবাগ নামক বদ্ধ প্রাঙ্গণে জমায়েত হওয়া হাজার হাজার নিরস্ত্র ও নিরীহ নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর ডায়ারের নির্দেশে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। রাওলাট আইনের প্রতিবাদ করতে আসা সহস্রাধিক মানুষ সেদিন ব্রিটিশদের বুলেটে প্রাণ হারান।


৭. ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব (Historical Significance)

রাওলাট আইন এবং তার ফলশ্রুতিতে ঘটা জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ভারতের রাজনীতির মোড় চিরতরে ঘুরিয়ে দিয়েছিল:

ক. ব্রিটিশদের প্রতি মোহভঙ্গ: যে সমস্ত ভারতীয়রা (এমনকি গান্ধীজিও) একসময় ব্রিটিশদের ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করতেন, এই ঘটনার পর তাদের সেই বিশ্বাস চিরতরে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। গান্ধীজি ব্রিটিশ সরকারকে "শয়তানের সরকার" আখ্যা দেন।

খ. গণ-আন্দোলনের যুগের সূচনা: রাওলাট সত্যাগ্রহ প্রমাণ করে দিয়েছিল যে, ভারতের সাধারণ মানুষ, কৃষক ও শ্রমিকরা স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত। এটি ছিল কংগ্রেসের 'অভিজাত রাজনীতি' থেকে 'গণ-রাজনীতিতে' উত্তরণের প্রথম ধাপ।

গ. অসহযোগ আন্দোলনের ভিত্তি: রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে জমে ওঠা এই ক্ষোভ এবং জালিয়ানওয়ালাবাগের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া 'অসহযোগ আন্দোলন' (Non-Cooperation Movement) শুরু করেছিলেন।

ঘ. আইন প্রত্যাহার: দেশজুড়ে তীব্র গণ-অসন্তোষ এবং আন্দোলনের চাপে পড়ে ব্রিটিশ সরকার অবশেষে ১৯২২ সালে 'রিপ্রেসিভ লজ কমিটি' (Repressive Laws Committee)-র সুপারিশ মেনে এই কুখ্যাত রাওলাট আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।


উপসংহার:

পরিশেষে বলা যায়, ১৯১৯ সালের রাওলাট আইন ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের কফিনে পোঁতা প্রথম বড় পেরেক। ব্রিটিশরা ভেবেছিল একটি কালো আইনের ভয় দেখিয়ে তারা ভারতীয়দের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেবে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, এই আইনই ঘুমন্ত ভারতকে জাগিয়ে তুলেছিল। "নো ভকিল, নো দলিল, নো আপিল"-এর এই স্বৈরাচারী আইন ভারতীয়দের মনে যে ঘৃণার জন্ম দিয়েছিল, তা পরবর্তী তিন দশক ধরে জ্বলে ওঠা স্বাধীনতা সংগ্রামের দাবানলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে ছাই করে তবেই নিভেছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ