সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা বা সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ(১৬ ই আগস্ট ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দ):

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র‍্যামসে ম্যাকডোনাল্ড লন্ডনে অফিসে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করছেন। টেবিলে বসে শুনছেন মহাত্মা গান্ধী আর ডঃ বি আর আম্বেদকর

প্রেক্ষাপট:

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ব্রিটিশ সরকার যে সমস্ত কূটকৌশল এবং দমনমূলক নীতির আশ্রয় নিয়েছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর এবং সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক চালটি ছিল ১৯৩২ সালের 'সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি' (Communal Award)। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র্যামসে ম্যাকডোনাল্ড (Ramsay MacDonald) কর্তৃক ঘোষিত এই নীতি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের কুখ্যাত 'ভাগ করো ও শাসন করো' (Divide and Rule) নীতির এক চূড়ান্ত এবং নগ্ন প্রকাশ।

এই নীতির মাধ্যমে ব্রিটিশরা কেবল হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যেই বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়নি, বরং ভারতের বৃহত্তর হিন্দু সমাজকেও জাতপাতের ভিত্তিতে চিরতরে খণ্ডিত করার এক গভীর ষড়যন্ত্র করেছিল। আসুন, ইতিহাসের পাতা থেকে সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতির পটভূমি, এর ভয়ংকর শর্তাবলী, বিভিন্ন নেতার প্রতিক্রিয়া এবং ভারতের রাজনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো। 


১. ঐতিহাসিক পটভূমি: 'ভাগ করো ও শাসন করো' নীতির বিবর্তন

সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি কোনো আকস্মিক ঘোষণা ছিল না; এটি ছিল ব্রিটিশদের দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত ফসল। ভারতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন যখনই শক্তিশালী হয়েছে, ব্রিটিশরা তখনই ধর্ম ও জাতপাতের বিষবাষ্প ছড়িয়ে তাকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে।


 মর্লে-মিন্টো সংস্কার (১৯০৯): ব্রিটিশরা প্রথম এই বিভাজনের বীজ বপন করে ১৯০৯ সালের 'মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন'-এর মাধ্যমে। এই আইনে প্রথমবার ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য 'পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা' (Separate Electorate) চালু করা হয়। অর্থাৎ, মুসলিমদের জন্য নির্দিষ্ট আসন থাকবে এবং সেখানে কেবল মুসলিমরাই ভোট দিতে পারবে।


 মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার (১৯১৯): ১৯১৯ সালের আইনে এই বিভাজনকে আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এবার মুসলিমদের পাশাপাশি শিখ, ভারতীয় খ্রিস্টান এবং অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানদের জন্যও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা হয়।


 সাইমন কমিশন ও গোলটেবিল বৈঠক (১৯৩০-১৯৩২): ১৯২৭ সালের সাইমন কমিশনের ব্যর্থতার পর ভারতের ভবিষ্যৎ সংবিধান রচনার জন্য লন্ডনে পর পর তিনটি 'গোলটেবিল বৈঠক' (Round Table Conference) অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে ডঃ বি. আর. আম্বেদকর ভারতের অনুন্নত বা দলিত শ্রেণির জন্য পৃথক নির্বাচনের জোরালো দাবি জানান। কিন্তু মহাত্মা গান্ধী এর তীব্র বিরোধিতা করেন। ভারতীয় নেতারা নিজেদের মধ্যে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে, ব্রিটিশ সরকার এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে এবং নিজেরাই একটি সমাধান চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।


২. সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতির ঘোষণা ও ব্রিটিশদের গোপন উদ্দেশ্য

ভারতীয় নেতাদের পারস্পরিক অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে ১৯৩২ সালের ১৬ই আগস্ট ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র্যামসে ম্যাকডোনাল্ড তাঁর নিজস্ব রোয়েদাদ বা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন, যা ইতিহাসে 'সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা' বা 'Communal Award' নামে কুখ্যাত।

ব্রিটিশদের মূল উদ্দেশ্যসমূহ:


ক. জাতীয় আন্দোলনকে দুর্বল করা: আইন অমান্য আন্দোলনের ফলে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস তখন ব্রিটিশদের প্রধান মাথাব্যথার কারণ। এই ঘোষণায় ভারতীয়দের ধর্ম ও জাতের ভিত্তিতে ভাগ করে দিলে, তারা একে অপরের সাথে লড়তে ব্যস্ত থাকবে এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন আপনাআপনি দুর্বল হয়ে পড়বে।


খ. হিন্দু সমাজকে দ্বিখণ্ডিত করা: ব্রিটিশদের সবচেয়ে বড় চাল ছিল হিন্দু সমাজকে ভাঙা। তারা বুঝতে পেরেছিল যে, হিন্দু সমাজের ঐক্য অটুট থাকলে জাতীয় আন্দোলন থামানো যাবে না। তাই তারা দলিত বা অনুন্নত শ্রেণিকে (Depressed Classes) হিন্দু সমাজ থেকে একটি সম্পূর্ণ আলাদা সম্প্রদায় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে চিরস্থায়ী বিভেদ তৈরি করতে চেয়েছিল।


গ. সংখ্যালঘুদের ব্রিটিশদের অনুগত করা: বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক সুবিধা ও আসন সংরক্ষণের টোপ দিয়ে ব্রিটিশরা তাদের চিরস্থায়ী মিত্র বানাতে চেয়েছিল।


৩. সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতির প্রধান শর্তাবলী (Provisions of Communal Award)

এই নীতিতে প্রাদেশিক আইনসভাগুলোতে আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত জটিল ও বিভাজনমূলক কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর প্রধান শর্তগুলো ছিল নিম্নরূপ:

  সংখ্যালঘুদের স্বীকৃতি ও পৃথক নির্বাচন: মুসলিম, শিখ, ইউরোপীয়, ভারতীয় খ্রিস্টান এবং অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানদের সংখ্যালঘু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তাদের জন্য আইনসভায় আসন নির্দিষ্ট করে 'পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা' (Separate Electorate) বহাল রাখা হয়।

  দলিতদের পৃথক সম্প্রদায় হিসেবে ঘোষণা (সবচেয়ে বিতর্কিত শর্ত): এই নীতির সবচেয়ে মারাত্মক দিকটি ছিল ভারতের দলিত বা অনুন্নত শ্রেণিকে (Depressed Classes) হিন্দু সমাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে একটি 'পৃথক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়' হিসেবে ঘোষণা করা।

  দলিতদের জন্য দ্বৈত ভোটাধিকার (Double Vote): দলিতদের জন্য প্রাদেশিক আইনসভাগুলোতে ৭১টি আসন সংরক্ষিত করা হয়, যেখানে কেবল দলিতরাই ভোট দিতে পারবেন (পৃথক নির্বাচন)। একই সাথে, সাধারণ হিন্দু আসনগুলোতেও দলিতদের ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়। অর্থাৎ, একজন দলিত মানুষ দুটি ভোট দেওয়ার অধিকার পান।

  গুরুত্ব বা ওয়েটেজ নীতি (Weightage System): যেসব প্রদেশে মুসলিমরা সংখ্যালঘু (যেমন—বাংলা বা যুক্তপ্রদেশ), সেখানে তাদের জনসংখ্যার অনুপাতের চেয়ে অনেক বেশি আসন (Weightage) দেওয়া হয়। কিন্তু পাঞ্জাবে শিখদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেওয়া হলেও, বাংলায় হিন্দুদের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।

  অন্যান্য সংরক্ষণ: ধর্ম ও জাতের বাইরেও জমিদার, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, বিশ্ববিদ্যালয় এবং শ্রমিকদের জন্য আইনসভায় আলাদা আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

  মহিলাদের জন্য আসন: মহিলারাও যাতে এই বিভাজন থেকে বাদ না যান, তাই মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলোকেও হিন্দু, মুসলিম, শিখ ইত্যাদি সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।


৪. বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া: ক্ষোভ, সমর্থন এবং নীরবতা

র্যামসে ম্যাকডোনাল্ডের এই ঘোষণা ভারতের রাজনীতিতে এক চরম আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন দল ও নেতার প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন ভিন্ন:


  জাতীয় কংগ্রেসের অবস্থান: কংগ্রেস এই নীতির চরম সাম্প্রদায়িক চরিত্রের কারণে তীব্র অসন্তুষ্ট হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেসের ভেতরেই হিন্দু ও মুসলিম নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অদ্ভুত নীতি গ্রহণ করে—"না গ্রহণ, না বর্জন" (Neither accept nor reject)। তারা সরাসরি এর বিরোধিতা করতে ভয় পেয়েছিল, পাছে মুসলিম বা দলিতরা কংগ্রেস থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।


  ডঃ বি. আর. আম্বেদকরের প্রতিক্রিয়া: ডঃ আম্বেদকর এবং দলিত নেতারা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানান। কারণ, হাজার বছর ধরে শোষিত দলিত সমাজ এই প্রথমবার রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। আম্বেদকর মনে করেছিলেন, ব্রিটিশদের এই নীতি তাঁর সমাজের মুক্তির পথ প্রশস্ত করবে।


  মুসলিম লীগ ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের সমর্থন: মুসলিম লীগ, শিখ এবং খ্রিস্টান নেতারা এই নীতিকে সমর্থন করেন, কারণ এতে তাদের সম্প্রদায়ের জন্য রাজনৈতিক সুবিধা ও আসন সুনিশ্চিত করা হয়েছিল।


৫. মহাত্মা গান্ধীর চরম বিরোধিতা ও আমরণ অনশন

সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি ঘোষণার সময় মহাত্মা গান্ধী আইন অমান্য আন্দোলনের কারণে পুনের য়েরওয়াড়া জেলে (Yerwada Jail) বন্দি ছিলেন। ব্রিটিশদের এই ঘোষণা শুনে তিনি শিউরে ওঠেন।

গান্ধীজি মুসলিম বা শিখদের পৃথক নির্বাচনের বিরোধিতা করেননি, কিন্তু দলিতদের হিন্দু সমাজ থেকে আলাদা করার ষড়যন্ত্রকে তিনি হিন্দু ধর্মের জন্য এক অশনিসংকেত হিসেবে দেখেছিলেন। তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে সতর্ক করেন যে, দলিতরা হিন্দু সমাজেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদি তাদের জন্য পৃথক নির্বাচন চালু হয়, তবে হিন্দু সমাজে এক অস্পৃশ্যতার দেয়াল চিরস্থায়ী রূপ নেবে এবং গ্রাম্য জীবনে চরম দাঙ্গা ও অশান্তি শুরু হবে।

ব্রিটিশ সরকার তাঁর কথায় কর্ণপাত না করায়, মহাত্মা গান্ধী ১৯৩২ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর জেলের ভেতরেই তাঁর ঐতিহাসিক 'আমরণ অনশন' (Fast Unto Death) শুরু করেন। তিনি ঘোষণা করেন, দলিতদের পৃথক নির্বাচন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তিনি জলস্পর্শ করবেন না।


৬. সমাধানের পথ: ঐতিহাসিক পুনা চুক্তি (Poona Pact)

গান্ধীজির আমরণ অনশনে সমগ্র দেশে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। ডঃ আম্বেদকর এক ভয়ানক নৈতিক সংকটে পড়েন। একদিকে তাঁর সমাজের মুক্তি, অন্যদিকে মহাত্মা গান্ধীর জীবন।

অবশেষে, মদনমোহন মালব্য, তেজ বাহাদুর সপ্রু এবং অন্যান্য নেতাদের মধ্যস্থতায় ডঃ আম্বেদকর গান্ধীজির জীবন রক্ষার্থে এক আপস-মীমাংসায় রাজি হন। ১৯৩২ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর গান্ধীজি ও আম্বেদকরের মধ্যে ঐতিহাসিক 'পুনা চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়।

এই চুক্তির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতির একটি অংশ (দলিতদের পৃথক নির্বাচন) বাতিল করা হয়। পরিবর্তে দলিতদের হিন্দু সমাজের অংশ রেখেই 'যৌথ নির্বাচন' (Joint Electorate) ব্যবস্থার অধীনে তাদের জন্য ১৪৮টি আসন (আগের ৭১টির দ্বিগুণেরও বেশি) সংরক্ষিত করা হয়। এর ফলে হিন্দু সমাজের বিভাজন সাময়িকভাবে রোধ করা সম্ভব হয়।


৭. ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব (উপসংহার)

যদিও পুনা চুক্তির মাধ্যমে দলিতদের পৃথক নির্বাচনের বিষয়টি বাতিল করা হয়েছিল, কিন্তু র্যামসে ম্যাকডোনাল্ডের 'সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি' ভারতের ভবিষ্যতের জন্য এক গভীর ক্ষত রেখে গিয়েছিল।

১. দেশভাগের বীজ রোপণ: এই নীতির মাধ্যমে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে যে রাজনৈতিক বিভেদের দেয়াল পাকাপোক্ত করা হয়েছিল, তা আর কোনোদিন ভাঙা সম্ভব হয়নি। এই পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থাই কালক্রমে ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভয়াবহ দেশভাগ (Partition of India) এবং পাকিস্তান সৃষ্টির মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

২. ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির সূচনা: আধুনিক ভারতের রাজনীতিতে ধর্ম, জাত এবং সংরক্ষণের ওপর ভিত্তি করে যে 'ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি' (Vote-bank Politics) দেখা যায়, তার তাত্ত্বিক রূপরেখা এই ১৯৩২ সালের অ্যাওয়ার্ডেই তৈরি হয়েছিল।

৩. ব্রিটিশদের আংশিক জয়: ব্রিটিশরা হয়তো হিন্দু সমাজকে সম্পূর্ণ ভাঙতে পারেনি, কিন্তু তারা ভারতীয়দের মনে এই বীজ বপন করতে সফল হয়েছিল যে, ভারতের বিভিন্ন ধর্ম ও জাতের মানুষের রাজনৈতিক স্বার্থ কখনোই এক নয়।

পরিশেষে বলা যায়, 'সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা' কেবল একটি ঘোষণাপত্র ছিল না; এটি ছিল পরাধীন ভারতের বুকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ছুঁড়ে দেওয়া এক বিষাক্ত তীর, যার যন্ত্রণা ভারতকে আজও তার সমাজ ও রাজনীতিতে বহন করতে হচ্ছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ